ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠতা, সাহাবী চরিত, রাজনীতি ও শিয়াবাদ
ভূমিকা
মহররম কারবালার মাস। তবে এই সময়ে অনেকের কাছেই মহররম ‘ইয়াজিদের’ কাঁধে বন্ধুক রেখে সাহাবী চরিতের কারবালা ঘটিয়ে ফেলার মাসও। তাই প্রতি বছর মহররম এলে সাহাবী হন্তারকদের এসব উত্তরসূরীরা সাহাবী চরিত্র লুণ্ঠনে ‘ইয়াজিদি’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ইতিহাসের বৈচিত্রময় বিবরণ থেকে তারা সাহাবী চরিত্রকে চরিতার্থ করার চেষ্টায় কারবালার আকাশে বুদ্ধিবৃত্তিক জিগাংসার ফানুস উড়ায়। অযাচিত শব্দ ও অবমাননাকর বাক্যবরণে কালিমা লেপন করে রাসুলের প্রিয় সাহাবী চরিত্রে। আমরা তাদের পুরোপুরি রুখে দিতে পারবোনা, কারণ এদের কিছু অংশতো অন্ধ ও বধির, অন্যরা জ্ঞানপাপি। তবে এ নোটে আমি সাহাবীদের পরিচয়, সাহাবী চরিতের আকাঈদ, তাদের বস্তুনিষ্ঠ সততা, ইতিহাস ও ইতিহাস পাঠের তরিকা নিয়ে ভিন্ন কিছু দিক তুলে আনার চেষ্টা করেছি। আশা করি পাঠক বিবিধ চিন্তার খোরাক পাবেন। ফালিল্লাহিল হামদ।
প্রাকালাপ
হযরত ওসমান রাযি. এর খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ হতে কারবালার ঘটনা পর্যন্ত যে সময়কাল, ঐতিহাসিক ঘটনাসূত্রের নির্যাস হিসেবে পর্যালোচনার জন্য আমরা এর দুটো দিক সামনে আনতে পারি। একটি হলো সাহাবা চরিতের তাকওয়া ও রাজনৈতিক দিক, অপরটি হচ্ছে—খেলাফত আ’লা মিনহাজিন নবুয়্যাহ’র ক্রমান্বয় রূপান্তরের দিক। এ দুটি বিষয়কে যথাযথ উপলব্ধি করার জন্য আমাদের সামনে নিঃস্বন্দেহে ঐতিহাসিক বর্ণনা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এবং এটিই একমাত্র মাধ্যম যা ছাড়া এ বিষয়গুলোকে পর্যালোচনা করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং ‘আমি ইতিহাস অস্বীকার করি’ এই প্রবণতা দূর্বলের। তবে বর্ণনা যেহেতু ঐতিহাসিক তাই এর সত্যাসত্যের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসের ক্ষেত্রে জাল বর্ণনাকারীদের মতো ইতিহাসের জাল বর্ণনাকারীদেরও আমাদের চিহ্নিত করা জুরুরী। কিন্তু ইতিহাস যেহেতু নিজেই সন্দেহের অবকাশ রাখে, সে জন্য হাদীসের বর্ণনাকারীদের মতো ইতিহাসের বর্ণনাকারীদেরও ‘আদালত’ নিয়ে আলাদা শাস্ত্র গড়ে উঠে নাই। তারপরো সত্যপন্থি ঐতিহাসিকগণ ইতিহাসের এই মাত্রার দিকে যথেষ্ট নজর দিয়েছেন এবং পর্যালোচনা পেশ করেছেন।
সাধারণত যেসব উপায়ে ইতিহাসকে পর্যালোচনা করা হয় এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে— ‘আকাঈদ’। ‘আকাঈদ’ হচ্ছে ব্যক্তির বিশ্বস্ততা ও তাকওয়ার প্রশ্নে কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক প্রমাণিত আদালত এবং তাঁর সম্পর্কে অভিযোগকৃত বক্তব্যের দ্বীনি বুনিয়াদি দিক থেকে পর্যালোচনা। এটি কখনো হাদিস যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোয্য হয়। এজন্য ঐতিহাসিক বক্তব্যকে ‘আকিদা’ দিয়ে প্রশ্ন করা এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। সাধারণত দ্বীন পালনের প্রশ্নে কিছু ব্যক্তির তাকওয়া ও চারিত্রিক বৈশিষ্টাবলী নিয়ে কুরআনুল কারীমের কিছু ভেল্যুয়েবল রেফারেন্স থাকে। কোন ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র যদি এর বিপরীত দাঁড়িয়ে যায়, অথবা কোনভাবেই এর সাথে সমন্বয় করা সম্ভব না হয়—তবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
এর উদাহরণ হলো—ঐতিহাসিক বর্ণনার মজবুত ভিত্তি থাকার পরো ‘হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের’ উপর আরোপিত ‘পরকীয়ার’ অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। কারণ—কুরআনুল কারীমে বর্ণিত নবী চরিত্র পরকীয়া করবেন এটি অসম্ভব এবং অবিশ্বাসযোগ্য। এবার কেউ যদি ইতিহাসের সিঁড়ি বেয়ে ঘটনার চাক্ষুস হওয়ারও দাবি করে তবু তা প্রত্যাখ্যাতই হবে। এটিই আকাঈদ।
কিন্তু সাহাবী সমালোচকগণ ইতিহাসের সত্যাসত্যের প্রশ্ন ও তাকে যাচাই করার জন্য ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসে উদ্বৃত কোটেশনগুলো গ্রহণ করতে নারাজ। অথবা এর এমন ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী—যা কি না সালাফ বা খালাফ কারো থেকেই পাওয়া যায়নি। এই নারাজি প্রবণতার কারণেই সাহাবী চরিত্র অংকনের সময় তাদের মাঝে এক ধরণের রাজনৈতিক উৎসাহব্যঞ্জক আক্রমনাত্বক মনোভাব লক্ষ করা যায়। ফলে কুরআনের উদ্বৃতির সাথে ঐতিহাসিক বর্ণনা খাপ খায়নি বলে আপাতত সাহাবীকে অভিযুক্তকরণ থেকে বিরত থাকতে হবে—এমন দাবিকে তারা নাকচ করেন। এক্ষেত্রে তারা রাজনৈতিক এক্টিভিজমের প্ররোচনার প্রভাবে ঐতিহাসিকসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যকে রেফারেন্স ভ্যালু হিসেবে কুরআন ও হাদীসের চেয়েও অধীকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাই এর উপর ভিত্তি করেই তারা সাহাবী চরিত্রের দিকে আঙ্গুল তোলেন ও অভিযুক্ত করেন।
তবে এক্ষেত্রে তাদের মাঝে দু’ধনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এক শ্রেণি আছে যারা সরাসরি সাহাবী চরিত্রের কুরআনি ‘সনদকে’ অস্বীকার করেন। তারা মনে করেন এটি সত্য নয় যে, আল্লাহ তা’য়ালা সাহাবীদের শতভাগ নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ করেছেন ও তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। আরেক শ্রেণি আছে যারা মনে করেন যে, সাহাবীদের নৈতিকতার প্রশ্নে কুরআনুল কারীমের উদ্ধৃতিগুলো সত্য। তবে তারা যাকে অভিযুক্ত করতে চান তিনি এর আওতামুক্ত। যেমন ওসমান রাযি. আবু সুফিয়ান রাযি. মুয়াবিয়া রাযি. বা শেষের দিকে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবীগণ রাযি.। ফলে কেউ সকল সাহাবাকেই অভিযুক্ত করেন আর কেউ শিয়াবাদী রাজনৈতিক অভিযুক্ত করণের অংশ হিসেবে হযরত ওসমান রাযি. এবং তার খেলাফত পরবর্তী ক্ষমতাকেন্দ্রীক উপস্থিতি আছে এমন সাহাবীদের গালমন্দ করেন।
দ্বিতীয়ত রইল ইতিহাসের ভিত্তি। আমরা আগেই বলেছি ইতিহাসে সংশয়ের অবকাশ আছে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইতিহাস পাঠ, এটাই ইতিহাস পাঠের তরিকা। কিন্তু ঐতিহাসিক যখন নিজেই তার বর্ণনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ও তা রদ করেন এবং কখনো ঘটনার পূর্বাপর কারণ ব্যাখ্যা করে সাহাবী চরিতকে অভিযুক্তকরণ থেকে মুক্ত করেন, তখন ইতিহাস আশ্রিত সাহাবী সমালোচক ভাইদের! উচিত ছিলো ইনসাফ করা। ঘৃণাবাদের রাজনৈতিক উৎসাহকে প্রশ্রয় না দেয়া। কিন্তু তারা তা করতে পারেন নি। তারা না সাহাবীদের আদালতের স্বীকৃতি দিয়েছেন আর না ইতিহাস পাঠের ঐতিহাসিক তরিকার প্রতি লক্ষ রেখেছেন।
ফলে ইসলামী ইতিহাসের শুরুর দিকে, মুলধারা থেকে বিচ্যূত হয়ে, যেসব ভ্রান্ত দল, উপদলের আবির্ভাব ঘটেছে, “সাহাবী” রাযি. সম্পর্কে নৈতিবাচক প্রবণতা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পরবর্তীতে সাহাবী বিদ্ধেষের এই রাজনৈতিকতাবাদের তত্ত্বকে কেন্দ্র করেই উম্মাহ ভাগ হয়ে গেছে। সাহাবীদের তাকওয়া ও নৈতিকতার প্রশ্নকে যারা ইলম ও আকাঈদের বিপরীতে স্রেফ রাজনৈতিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন, এবং এই প্রণোদনায় তাদের টুটি চেপে ধরার চেষ্টা করেছেনতারাই পরবর্তীতে খারেজি, রাফেজি শিয়া, সাবায়ী চক্র নামে পৃথিবীর মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। সে সময়কার এসব ভ্রান্তদলগুলোর দাবি দাওয়াগুলো স্ব-স্ব স্থানে যুক্তি তর্ক, এবং রাজনৈতিক বিবেচনার দিক থেকে হয়তো কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণ করা যাবে। কিন্তু সাহাবী বা সাহাবীয়্যাতের মর্যাদা সংক্রান্ত আকাঈদ এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতার বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনার দিকে নজর দিলে এসব যুক্তিতর্ক ও সাহাবী সমালোচনার অসারতাগুলো খুব সহজেই ধরা দেবে।
ইতিপূর্বে সত্যপন্থি ওলামাগণ আকাঈদ ও ইতিহাসের পূর্বাপর পর্যালোচনা করে তাদের এসব ভ্রান্ত্রির অসারতা তুলে ধরেছেন। ইতিহাস থেকেই দেখিয়েছেন সাহাবী চরিতের তাকওয়া ও দ্বীনদারির সেই সোনালী ইতিহাস। তারপরো সমালোচকদের বক্রতা থামেনি। বন্ধ হয়তি তাদের শ্লেষ ও বিদ্ধেষ। যে ওসমান রাযি. প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু উম্মাহর মধ্যে বিভেদের প্রশ্নকে আশ্রয় দেন নি। আজ সেই ওসমানই ইতিহাসের কাঠগড়ায় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো আসামী। কেউ কেউ আজ ইতিহাসের উল্টো পথ ধরে সেই ওসমানকেই বিবেধের কারণ হিসেবে উম্মাহর সামনে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়।
[দুই] সাহাবী কাকে বলে?
সাহাবী কাদের বলা হবে এ বিষয়ে আলেমদের কয়েকটি মতামত আছে। সবগুলো মতামতই প্রায় কাছাকাছি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাহাবী আরবী শব্দ। মুল শব্দ হল صحب, যার বহু বচন اصحاب صحابة। কুরআনুল কারীমে সুরা আম্বিয়ার ৪৩ নং আয়াতে শব্দটি সাহায্যকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও সঙ্গ দেওয়া, সম্পর্ক স্থাপন, দেখা সাক্ষাত, হৃদ্বতা বা বন্ধুত্ব অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
(১) আল্লামা ইবনু হাজর রহ. বলেন সাহাবী ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি ঈমানের সাথে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাত পেয়েছেন এবং ঈমানের সাথেই মৃত্যৃবরণ করেছেন। (আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৪) কাজেই মুনাফিক এবং কাফিররা সাহাবী নন। তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে বটে; তাদের ঈমান ছিলো না। এবং ঐসব লোকও সাহাবী নন যারা রাসুলকে ঈমানের সাথে দেখেছে তবে তাদের মৃত্যু হয়েছে কুফরের উপর।
২) আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন-“সাহাবী বলা হয় যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ঈমান এনেছেন, তাকে দেখেছেন এবং ঈমানের উপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। মুনাফিক বলে যে প্রকাশ্যে ঈমানের ঘোষনা দেয় অথচ গোপনে কুফরী লালন করে। কাজেই কোন সাহাবী মুফানিক নয় আর না কোন মুনাফিক সাহাবী হবে না”। (শুবহাতুর রাফিজিয়্যাহ আন হাউলিস সাহাবাহ-খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১৪৭)
৩) ইমাম বোখারীর উস্তায আলি ইবনুল মাদানী রহ. বলেন- যিনি ইসলাম গ্রহণ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংস্পর্শ গ্রহণ করেছেন অথবা তাকে দেখেছেন যদিও তা দিনের কিয়দাংশও হয়, তিনিও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী হিসেবে গণ্য হবেন। (ফাতহুল মুগিস বি সারহিল ফিয়াতুল হাদীস থেকে উদ্বৃত (২৮৬ পৃষ্ঠা)
(৪) ইমাম বুখারী রহ. বলেন যিনি রাসুল সা: এর সংর্স্প পেয়েছেন এবং মুসলিম অবস্থায় তাঁকে দেখেছেন ও মৃত্যুবরণ করেছন তিনিই সাহাবী। (বুখারী, কিতাবু ফাযায়িলী সাহাবা, বাবু ফাযাঈলি আসহাবু রাসুলিল্লাহ (সা.)
ওলামাদের সবগুলো সংজ্ঞাকে সামনে রাখলে যা দাঁড়ায় তা হলোসাহাবী বলা হবে ঐ ব্যক্তিকে যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংস্পর্শ পেয়েছেন কিছু সময় অথবা দীর্ঘ সময়, তাকে দেখেছেন দূর থেকে অথবা কাছ থেকে, ঈমানের সাথে এবং মৃত্যুবরণও করেছেন ঈমানের উপর। কাজেই ঐ ব্যক্তিও সাহাবী হবেন যিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমানের সাথে দেখেছেন মাত্র কিছু সময়ের জন্য এবং তার মূত্যু হয়েছে ঈমানের উপর। যদিও সাহাবীদের মাঝে দ্বীনের জন্য কুরবান ও পূর্বাপর ইসলাম গ্রহণের আলোকে পরষ্পর মর্যাদাগত ব্যবধান আছে। কিন্তু কারো বেশী মর্যাদা অন্য কোন সাহাবীর সাহাবীমূলক মর্যাদাকে খাটো করে না।
[তিন] কুরআনের শব্দে সাহাবী
মদিনায় হিজরতকালে, গারে সুরে অবস্থানকালে আবুরবকর রাযি. এর দু:শ্চিন্তা দেখে, রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কী বলেছেন; কুরআনুল কারীম তার বর্ণনা দিয়েছে; صاحب “সাহিব” শব্দে। কুরআন বলেছে-
إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
“যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। সুরা তাওবা- আয়াত-৪০। এখানে আল্লাহ তা’য়ালা আবু বকর (রা:) এর জন্য লি-সা-হিবীহি ”শব্দে উল্লেখ করেছেন। তাই আবু বকর রাযি এর সাহাবীয়্যাত কুরআন কর্তৃক স্বীকৃত বিষয়।
হাদীসের শব্দে সাহাবীয়্যাত
সহীহ সূত্রে বর্ণিত বিভিন্ন হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সঙ্গীদের ব্যাপারে বিভিন্ন ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে সাহাবী শব্দের ব্যবহার করেছেন।
" لا تَسُبُّوا أَصْحَابِي , فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلا نَصِيفَهُ "
তোমরা আমার সাহবীদের বৎসনা করোনা। ঐ সত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ যদি তোমাদের কেউ উহুদ পরিমাণ সোনাও দান করে [সহীহ মুসলিম, সাহাবী রাযি. এর মর্যাদা বিষয়ক অধ্যায়, হাদীস নং- ২৫৪০]
এছাড়া উলূমে হাদীসের কিতাবাদীতে সাহাবী একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। হাদীসের বিস্তৃত জগতজুড়ে আকাশের নক্ষত্রের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যাদের নাম। হাদীস গ্রহণ-বর্জন, বর্ণনা শুদ্ধাশুদ্ধি নির্বাচন এবং পরস্পর দেখা সাক্ষাতসহ নানান প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে এই সাহাবী পরিচয়। ফিকহের অধ্যায়গুলো “সাহাবী” শব্দের বর্ণানাতীত বর্ণনা আছে। ইসলামী সমাজে উদ্ভাবিত নতুন নতুন বিষয়াবলীকে আমল ভিত্তিক বিণ্যাসের জন্য সাহাবীদের ইজতেহাদগলো প্রাথমিকভাবে এতে স্থান পেয়েছে এবং কোন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ মতামত পেষ করার জন্য সাহাবীদের মতামতই সর্বাগ্রে চুড়ান্ত বলে গণ্য করা হয়।
[চার) সাহাবীয়্যাত একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা
ইসলাম বলতে আমরা যা কিছু বুঝি কুরআন, হাদীস, আকাঈদ, ফিকহ, ইবাদাত, মুয়ামালাত, মু’য়াশারাত ও রাজনীতি এর পুরো বিষয়টি বুঝার ক্ষেত্রে সাহাবীয়্যাত একটি বিকল্পহীন সিঁড়ি, যার এক দিক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঝুলানো আর এক দিক তাবেয়ী হয়ে গোটা দুনিয়ার মুসলিম উম্মাহর ঘরের দিকে ঝুঁকানো। তাই দ্বীনে ইসলামের ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে রেসালাত পর্যায়ের না হলেও ‘আসারে’ সাহাবা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ‘সাহাবী’ একটি মর্যাদা বিশেষ। আল্লাহ সুবনাহু তা’য়ালা পদত্ব একটি বিশেষ বিশেষণ।
কেউ যদি ‘নাবী’ হন; তাঁর সাথে অপরাপর কতগুলো আহকাম প্রমাণিত হয়ে যায়। যেমন;তাঁর উপর ঈমান আনা ফরয, তিনি গুনাহমুক্ত হবেন, তিনি কখনো মিথ্যা বলবেন না, তিনি যা বলবেন তা ওহী, তাঁর কাজই হক, তার কথাই ইসলামের দলিল। সিদ্দিক, শুহাদা, সালিহীন এগুলোর সাথেও সংশ্লিষ্ট কিছু আহকাম আছে। সাহাবীয়্যাতও এমন একটি বিশেষণ। এর সাথে আকাঈদ ও আহকামের কিছু সংশ্লিষ্টতা আছে। যেমন সাহাবীগণের উপর আল্লাহ তায়ালা পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট, তারা সত্যের মাপকাঠি, ন্যায় এবং ইনসাফগার, হাদীস গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা কখনো মিথ্যা বলেননা। তাদের সামলোচনা করা হারাম। তাদের বিরুদ্ধে বিদ্ধেষ ছড়ানো পর্যায়ক্রমে ফিসক ও কুফর।
সাহাবীয়্যাত এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম আহকাম বিষয়ে কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য দলিল বিদ্যমান। আমরা আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ে দ্রুত পৌঁছাতে এখানে এ বিষয়ে কুরআনুল কারীম ও হাদীস থেকে দুটি করে দলিল পেশ করছি
[১] সুরা হুজরাতে আল্লাহ তায়ালা বলেন
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَىٰ ۚ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ.
আল্লাহ তাদেরই অন্তরগুলোকে তাকওয়ার জন্য বাছাই করেছেন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান। (সুরা হুজরাত, আয়াত-৩)
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সাহাবীদের ঈমান, ইনসাফ, নীতি নৈতিকতা ও তাকওয়ার একটি বিশেষ অবস্থার কথা বর্ণনা করছেন যে, তিনি তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করে নির্বাচিত করেছেন। অনেক মুফাসসীরে এখানে امْتَحَنَ এর অর্থ করেছেন اخلص অর্থাতঃ শুদ্ধ করেছেন বা খাঁটি করেছেন, তো সাহাবী সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালার ঘোষণা হলো তিনি তাদের কলবকে তাকওয়াপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং তাদের ক্ষমা ও আজরে আজীমের ঘোষণা করেছেন। ফলে তাকওয়ার জন্য উত্তীর্ণ ব্যক্তির ভেতর ক্ষমতার মোহ বা ষড়যন্ত্র প্রবণতা নেই এটা খুবই স্বাভাবিক।
[২] সুরা বাকারার একেবারে শুরুর দিকে আল্লাহ তা’য়ালা মুনাফিকদের পসঙ্গে বলছেন-
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آَمِنُوا كَمَا آَمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آَمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُونَ
(১) আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা ঈমান আন যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে’, তারা বলে, ‘আমরা কি ঈমান আনব যেমন নির্বোধরা ঈমান এনেছে’? জেনে রাখ, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না। [সুরা বাকারা-১৩)
আয়াতে মুনাফিকদের ঈমান আনার জন্য বলা হয়েছে; যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে। এখানে আরবী শব্দ النَّاسُ ব্যবহার হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে সে সময় النَّاسُ বলে কাদের বুঝানো হয়েছে। সমস্ত তাফসীর এ বিষয়ে একমত যে, এখানে النَّاسُ বলে সাহাবীদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাত ঈমানের জন্য মডেল হিসেবে সাহাবীদের ঈমান একটি মাপকাঠি। আয়াতের পরবর্তী অংশে মুনাফিকরা সাহাবীদেরকেই বলেছিলো السُّفَهَاءُ মানে নির্বোধ।
আয়াতের একটা প্রাসঙ্গিক দিক হলো সাহাবীয়্যাত ঈমানের জন্য একটি মর্যাদা। যাদের ঈমান উদাহরণ সমতূল্য এবং যে কোন বিচারে মাপকাঠি হবার যোগ্যতা রাখে।
৩] রাসুলে কারীম (সা.) বলেন-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " تَفْتَرِقُ هَذِهِ الْأُمَّةُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً . كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا فِرْقَةً وَاحِدَةً " . قَالُوا : وَمَا تِلْكَ الْفِرْقَةُ . قَالَ : " مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْم وَ أَصْحَا بِي "
আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন; রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; এই উম্মাত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ছাড়া বাকীগুলো জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন তারা কারা। তিনি বললেন; যারা আমার এবং আমার সাহাবীগণের অনুসরণ করবে। (তিরমিযি-২৬৪১)
হাদীসের শেষ ভাগ আমাদের আলোচ্য বিষয়। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের মধ্যে ভ্রান্তিকর ফেরকাবন্দির বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন সবগুলো দলই জাহান্নামি, তবে একটি মাত্র দল জানাœতী। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন তারা কারা। তিনি বললেন যারা আমার এবং আমার সঙ্গীদের পথের অনসুারী হবে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হকের ব্যাপারে আমাদের যে মানদন্ড দিয়েছেন, তাতে তিনি তার সাহাবীদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন وَأَصْحَابِي আমার সাহাবীদের পথ।
এখানে একথা যেন কেউ না বুঝে যে, রাসুল সাহাবীদের নবুওয়্যাদের মর্যাদা দিয়েছেন; বরং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের দ্বীনের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা তার অনুশীলন নিয়েছেন এবং তাদের উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অপ:তর বিবিধ ক্ষেত্রে মানুষের জন্য অনুষরণীয় বলে ব্যক্ত করেছেন।
[পাঁচ] ‘আদালত’ ও সাহাবী রাযি.
‘আদালত’ উলুমে হাদীসের একটি স্বতন্ত্র পরিভাষা। মৌলিকভাবে হাদীস বর্ণনাকারীর নৈতিকতার প্রশ্নে এর উদ্ভব। হাদীস বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণের জন্য তার আদালত একটি উল্লেখযোগ্য শর্ত। শাব্দিক অর্থ ন্যায়পরায়ণতা। পরিভাষায় কয়েক ধরণের অর্থ পাওয়া যায়।
(ক) হাফেজ ইবনু হজর রহ. বলেন’ এমন যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি, তাকওয়া ও ব্যক্তিত্ব যার অবিচ্ছেদ সঙ্গি। এখানে তাকওয়ার অর্থ শিরক, ফিসক এবং বিদ’আত জাতীয় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। [নুযহাতুন নজর ফি তাওযীহি নুখবাতুল ফিকর পৃষ্টা-৫৮]
সাহাবীগণের আলাদতে ব্যাপারে উম্মাতে ইজমা হলো সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ন, ইনসাফগার ও সত্যনিষ্ঠ। তাদের মাঝে কোন কুটিলতা, বক্রতা, ষড়যন্ত্র প্রবনতা এবং ক্ষমতার মোহ ছিলোনা। স্বজনপ্রীতি, অনৈতিক পন্থায় অর্থ উপার্জন, হালালকে হারাম করণ বা হারামকে হালাল করণ অথবা দ্বীনের মাঝে নতুন নতুন বিদআত চালু করার প্রবণতাও ছিলোনা।
(খ) ইমাম ইবনুল বার রহ. বলেনযদিও সাহাবীদের বিভিন্ন অবস্থা নিয়ে আমরা দীর্ঘ বাদানুবাদ করেছি; কিন্তু এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, সমস্ত আহলে হক অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইজমা হলো সাহাবীগণ প্রত্যেকেই আদালত সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। [আল ইস্তেআব ফি মা’রিফাতি আসহাব- পৃষ্ঠা-২৩]
(গ) ইমাম ইবনু সালাহ রহ বলেনসমস্ত উম্মত এ ব্যপারে ঐক্যবদ্ধ যে, সাহাবীগণ সকলেই মু’তাদীল, এমনকি যারা ফিতনায় পতিত হয়েছেন তারাও। [মা’রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমুল হাদীস। পৃষ্ঠা-৩৯৮]
(ঘ) হাফেজ ইবনুর হজর রহ. বলেন;সাহাবীদের আদালতের ব্যপারে সকল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত ঐক্যবদ্ধ। বিচ্ছিন্ন কিছু বিদআত পন্থি ছাড়া। [আল ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাব- খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৬]
(ঙ) ইমাম ইবনু কুদামা রহ. ‘আদালত’ কাকে বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনার পর আদালতকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য শর্ত হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি কোন বর্ণনাকারীর হাদীস গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না তার আদালতের ব্যাপারে পুরোপুরো নিশ্চিত হতেন। তবে তিনি এই শর্তটি সাহাবী নয় এমন বর্ণনা কারীদের জন্য প্রযোজ্য বলে মনে করতেন। কাজেই কোন সাহাবী থেকে কোন বর্ণনার সুত্র পাওয়া গেলেসেখানে সাহাবীর আলাদত আছে কী না? সে বিষয়ে কোন বাদানুবাদ করা হবে না। কেননা পরবর্তী, পূর্ববর্তী সকল ওলামা এবং উম্মাতের ঐক্যমত কুরআন এবং হাদীসের ভিত্তিতে এটা স্বতস্বিদ্ধ কথা যে সাহাবীরা আদালত সম্পন্ন এবং ন্যায় পরায়ন।
“একটা বিষয় ভালোভাবে জেনে রাখা খুব জরুরী যে, এখানে আদালত অর্থ কোনভাবেই এই নয় যে, সাহাবীগণ গুনাহমুক্ত ছিলেন অথবা গুনাহে পতিত হননি। কারণ তাকওয়ার সংজ্ঞা হলো যিনি গুনাহ করেন; কিন্তু সাথে সাথেই তওবাও করেন। সাহাবীগণ রাযি. এমন ছিলেন। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহাবীদের তাওবা কবুলের ঘোষণাও এসেছে। এখানে আদালত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের তাকওয়া ও পবিত্রতা বিষয়ে কোন ধরণের দ্বন্ধ ছাড়াই তাদের বর্ণনাগুলো গ্রহণ করা। কাজেই কোন কোন ঐতিহাসিক নেতিবাচকভাবে তাদের যে চরিত্র অঙ্কন করেছেন আমরা তার দিকে কমই নজর দেবো। তথাপি এমন কোন বিষয় উপস্থিত হয়ে গেলেও আমরা তার ইতিবাচক ব্যাখ্যা করবো।”
উপরোক্ত আলোচনা থেকে পরিষ্কার হলো সাহাবীয়্যাত একটি সতন্ত্র মর্যাদা। আল্লাহ প্রদত্ব পরীক্ষিত তাকওয়ার ভুষণ। এদের গুনাহ হতে পারে এবং হয়েছেও। কিন্তু এদের মন নিজের ভুলের ব্যপারে আল্লাহকে এতো বেশি ভয় করতো যে, বয়াভহ শাস্তির মুখোমুখি হবে যেনেও নিজের গুনাহ স্বীকার করতে কখনো কুণ্ঠিত হতে না। সুতরাং ইতিহাস পাঠের ক্ষেত্রে সাহাবীদের দিকে ক্ষমতার মোহ, বিদআত চালুকরণ ও চরিত্রে অভিযোগ আসে এমন বর্ণনা পরিহার যোগ্য।
[ছয়) ইতিহাস ও সাহাবী সমালোচনা এদিক ওদিক
এ পর্যায়ে প্রথমেই আমরা সংক্ষিপ্ত করে কয়েকটি শব্দের বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়োজন মনে করি। শব্দগুলো হচ্ছে
১. আলোচনা ২. সমালোচনা ৪. ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ৫. এবং ঐতিহাসিক তথ্যের উপর নির্ভর করে অভিযুক্ত করা।
আলোচনা শব্দের ব্যবহারিক অর্থ আমরা বুঝি। সামালোচনার দু’টি দিক আছে। একটি উপকারি এবং জরুরীও বটে। যেমন সাহিত্য ও মতাদর্শ বিষয়ক সমালোচনা। এটি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। এর আরেকটি দিক হলো; কারো ব্যক্তিসত্বাকে অভিযুক্ত আঁকারে হাজির করা। অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার প্রতি ইঙ্গিত করা। ইতিহাসের আলোচনাকে সমালোচনার দৃষ্টিতে গ্রহণ করে, কোন প্রকার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ছাড়াই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা।
সত্যপন্থি ঐতিহাসিকগণ ইতিহাস বর্ণনার করেছেন সমালোচনার ইতিবাচক আঙ্গিকে। এ ক্ষেত্রে তারা যে ইনসাফ রক্ষা করেছেন; যে ধারায় তারা সাহাবীদের চরিত্রের বিশ্লেষণ করেছেনপরবর্তী অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাহাবী সমালোচক সে ধারা রক্ষা করতে পারেনি বা করেনি। সত্যপন্থি ঐতিহাসিকগণ ইতিহাস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু অভিযুক্ত করেননি। দ্বীনের ধারক ও তাঁর অন্যান্য বর্ণনার বিশুদ্ধতার প্রশ্নের প্রতি লক্ষ রেখে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। যাতে কেবল ব্যক্তি নয় বরং দ্বীনকেই অভিযুক্ত করণ সহজ না হয়। ইতিহাস থেকে খোরাক নেয়ার সময় এই সতর্কতার ধারাটিই অত্যন্ত জরুরী। তাই অনেকসময় ঐতিহাসিক নিজেই বিভিন্ন ধারার বর্ণনা নিয়ে বাদানুবাদ করেছেন এবং প্রমাণ করে দিয়েছেন এই বর্ণনাটি মিথ্যা, যাতে পরবর্তীরা একে পুঁজি ভ্রষ্টতার দিকে অগ্রসর না হয়। কিন্তু সাহাবী সমালোচকগণ সেদিকে খুব কমই গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা একটা রাজনৈতিক বিদ্ধেষকে উস্কে দিতে জাল ও নিবোর্ধ কাহিনীকারদের বর্ণনা দিয়ে সাহাবীদের অভিযুক্ত করেছেন। নি¤েœ আমরা সত্যপন্থি ঐতিহাসিকের বর্ণনার ধারা ও অভিযোগকারীর ভুল ইতিহাস পাঠের কিছু নমুনা পেশ করছি।
[সাত] নমুনা এক
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাযি. এর ইন্তেকালের পর, খলিফা মনোনয়নের ব্যাপারে তারই প্রণিত শুরার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রাযি. দীর্ঘ পক্রিয়া অবলম্বন করে যখন হযরত ওসমান (রা.) কে খলিফা মনোনীত করলেন; তখন আলী রাযি. এর পতিক্রিয়া কী ছিলো; এই বিষয়ে ইবনে জারীর ও অন্যান্য ঐতিহাসিকদেও একটি বর্ণনা দেখুন।
“ইবনে জারীর ও অন্যান্য ইতিহাসবিদগণ বর্ণণা করেন যে, আলী (রা:) আবদুর রহমান ইবনে আওফকে বলেছিলেন, তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছো, তুমি হযরত ওসমান (রা.) কে আমির নিযুক্ত করেছ, কেননা তিনি তোমার জামাতা, আর দৈনন্দিন কাজে তিনি তোমার পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। তিনি তাঁর পেছনে ধাবিত হন। এমনকি তাকে হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. কুরআন শরীফের এই এই আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে লাগলেন।
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
অর্থাত যে এটা ভঙ্গ করলো, এটা ভঙ্গ করার পরিনাম তারই এবং যে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তিনি তাঁকে মহা পুরষ্কার দেন। । (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-খন্ড-৭ পৃষ্ঠা ২৬৬- ইফাবা)
এবার এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করার পর খোদ বর্ণনা নিয়ে আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ বক্তব্য দেখুন
“এ ধরণের অনেক বর্ণনা এসেছে, যা প্রতিষ্ঠিত বিশুদ্ধরূপে বর্ণিত বর্ণনা সমূহের পরিপন্থি। এসব বর্ণণা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়, এগুলো প্রত্যাখ্যানকৃত বর্ণনা। বহু রাফেযি ও নির্বোধ কাহিনীকার যাদের মধ্যে শুদ্ধ ও দূর্বল তথ্য এবং সহজ ও সরল ও বক্র তথ্য সমূহের মধ্যে প্রাথক্য করার ক্ষমতা নেই। তারাই সাহাবীদের সম্বন্ধে নানারূপ অসত্য মন্তব্য করে থাকে যা কোন সুস্থ্য স্ববল চিত্তের অধিকারীরা করতে পারেনা। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-খন্ড-৭/ পৃষ্ঠা ২৬৬-ই:ফা:বা)
এখন ইবনে জারীরের ঐ ইতিহাসের বর্ণণার সূত্র ধরেআমরা হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাযি. কে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করণ অথবা হযরত আলি রাযি. এর প্রতি ক্ষমতার মোহের প্রতি অভিযোগ তুলতে পারি। ইতিহাস আমাদের সেই অথোরিটি দিয়েছে। কিন্তু সাহাবীয়্যাতের মর্যাদা সংক্রান্ত আকাঈদ ও বিশুদ্ধরূপে বর্ণিত বর্ণনা সমূহ আমাদের সামনে আসলে আমাদের একটু থেমে যেতে হয়। খোদ ইবনে কাসীর (রাহি.) সে দিকেই গেছেন। তিনি বলেছেনতারা সাহাবীদের সম্বন্ধে নানারূপ অসত্য মন্তব্য করে থাকে যা কোন সুস্থ্য স্ববল চিত্তের অধিকারীরা করতে পারেনা।
[নমুনা দুই ]
হযরত ওসমান রা. এর উপর বড় বড় যে সব অভিযোগ; তম্মধ্যে একটি হলো; তিনি ব্যক্তি ও গোত্র স্বার্থের দিকে লক্ষ রেখে তাঁর খেলাফতকালে প্রসাশনের বিভিন্ন গরুত্বপূর্ন পদে এমনসব ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছেন; যারা এক দিকে তার নিকটাত্মীয় অন্যদিকে অযোগ্য। যা অন্য জনগণকে দেয়া হয়নি। ফলে জনগণের মাঝে তা ওসমান রাযি. সমালোচনার লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়। এটি ছিলো তার স্বজনপ্রীতির প্রমাণ। এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে যেসব বিদ্রোহ দেখা দেয় তার গুরুত্বপূর্ণ কারন।
খেলাফত ও মুলুকিয়্যাতের লেখক- “সাইয়্যেদ আবুল আলা মাওলানা মওদুদী” হযরত ওসমান রা. এর উপর এই অভিযোগ তোলেন এবং এর পক্ষে একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা উল্লেখ করেন। আমরা সেই ইতিহাস থেকেই সেই ঐতিহাসিক বর্ণনার বাস্তব অবস্থাটা একটু দেখে নেব।
সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর ভাষায়
“কিন্তু তাঁর পরে হযরত ওসমান (রাঃ) তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ধীরে ধীরে এ নীতি থেকে দূরে সরে যান। তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনকে একের পর এক বিরাট বিরাট পদ দান করতে থাকেন। তিনি তাদেরকে এমনসব সুযোগ-সুবিধা দান করেন, যা জনগণের মধ্যে সাধারণভাবে সমালোচনার লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়। তিনি হযরত সা‘আদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে (রাঃ) পদচ্যুত করে তাঁর বৈমাত্রের ভাই ‘ওয়ালীদ ইবনে উকবা ইবনে আবী মোয়াইতকে কুফার গবর্ণর নিযুক্ত করেন। (খেলাফত ও রাজতন্ত্র, আধুনিক প্রকাশনী, ৩য় সংস্করণ পৃষ্ঠা : ১০০)
সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদীর উক্ত আলোচনা সার কথা দাঁড়ায় যে, হযরত ওসমান রাযি. হযরত সায়াদ ইবনে আবি ওক্কাস রাযি. কে কুফা হতে বরখাস্ত করেন এবং এর স্থলে তার বৈমাত্রিক ভাই ওয়ালিদ ইবনে ওকবা ইবনে আবী মুয়ীতকে নিয়োগ দেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে কুফায় হযরত ওমর রাযি. কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত আল-মুগীরা ইবনে শুবাহ রাযি. কে কুফা হতে অব্যহতি দিয়ে হযরত ওসমান রাযি. ই সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি. কে কুফার শাসকপদে নিয়োগ দান করেন। পরবর্তীতে বাইতুল মালের কোষাধ্যক্ষ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযি. এর সাথে হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি. এর একটি বাদানুবাদকে কেন্দ্র করে ওসমান রাযি. সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি. কে অব্যহতি দান করেন।
ঐতিহাসিক আল বিদায়া ওয়ান নিহায়ার ভাষায়
“এ বছরই হযরত ওসমান রাযি. আল-মুগীরা ইবনে শুবাহ (রাযি.) কে কুফা হতে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং সাদ ইবন আবু ওয়াক্কাস রা. কে কূফায় শাসক নিযুক্ত করেন। তিনি ছিলেন প্রথম শাসক যাকে সেখানে নিযুক্ত করা হয়েছিলো। হযরত ওমর রাযি, বলেছিলেন যদি সাদ রা. কে আমীর রাখা যায় তাহলে বেশ ভাল কথা, অন্যথায় তোমাদের মধ্যে হতে তার পরিবর্তে যে আমীর হবে সে যেন তার থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সাহয্য সহায়তা গ্রহণ করে। কেননা, আমি তাঁর অপারগতা কিংবা তাঁর দূর্ণীতির জন্যে তাকে বরখাস্ত করিনি। তারপর ওসমান রাযি. এক বছর এবং আরো কিছু দিনের জন্য সাদ রাযি. কে আমীর নিযুক্ত করেন। আল্লামা ওয়াকিদী রা.আসলাম হতে বর্ণনা করেন যে, হযরত উমর রা. ওসীয়ত করেছিলেন যে, তার শাসকদের যেন কমপক্ষে এক বছর যাবত যার যার স্থান বলবৎ রাখা হয় তাই ওসমান রাি আমীর নিযুক্ত হওয়ার পর মুগীরা ইবনে শুবাহ রা.কে কুফার প্রশাসকের পদে এক বছর বলবৎ রাখনে।
(তবে) হযরত সাদ রা. এর বরখাস্তের কারণ ছিলো এই যে, হযরত সাদ রাযি, বাইতুল মাল হতে কিছু ঋণ গ্রহণ করেছিলেন বায়তুল মালের দায়িত্বে নিয়োজিত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা. ঋণ পরিশোধ করার জন্য হযরত সাদ রা. এর উপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু তার পক্ষে ঐ সময় ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব ছিলোনা। তাতে দুইজন কথাবার্তা বলতে লাগলেন এবং দুইজনের মধ্যে ভীষণভাবে কথা কাটাকাটি শুরু হয় হযরত ওসমান রাযি. দুইজনের উপর রাগান্বিত হন এবং সাদ রাযি. কে বরখাস্ত করেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ-৭/২৭৫)
অত:পর আজারবাইজান ও আরমেনিয়া বিজেতা একই সাথে রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রণকারী ওকবা ইবনে আমেরকে নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিন পর যখন ওকবার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে যে, তিনি মদপান অবস্থায় সালাতে ইমামতি করেছেন; তখন ওসমান রাযি. তাকে মদিনায় ডেকে তার উপর মদপানের শরয়ী হদুদ কায়েম করেন ও তাকে কুফার শাসক হতে বরখাস্ত করে তার স্থলে সাইদ ইবনুল ‘আস (রা)-কে নিযুক্ত করেন।
আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ’র ভাষ্য-
“এ বছরই উসামান ইব্ন আফ্ফান (রা) আল-ওয়ালীদ ইব্ন উকবা (রা)-কে কূফা হতে বরখাস্ত করেন এবং তার স্থলে সাইদ ইবনুল ‘আস (রা)-কে নিযুক্ত করেন। তাকে বরখাস্ত করার কারণ হলো এই যে, তিনি একদিন কূফাবাসীদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত চার রাকাত আদায় করেন এবং মুক্তাদীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে নিয়ে অতিরিক্ত নামায পড়েছি? তখন একন মুক্তদী বললেন, আজকের দিন থেকে তোমার সাথে আমারা অতিরিক্ত নামায পড়তে থাকব। তারপর একদল লোক তাকে প্রতিহত করল। কথিত আছে যে, তাদের ও তাঁর মধ্যে ছিল দুশমনি। তাই তাঁর বিরুদ্ধে হযরত উসমান (রা)-এর কাছে অভিযোগ পেশ করেন এবং তাদের কেই কেউ তাঁর বিরুদ্ধে শরাব পান করার অভিযোগ আনয়ন করেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এরূপ স্বাক্ষী দেন যে, সে তাঁকে বমি করতে দেখেছে। উসমান (রা) তাকে উপস্থিত করার জন্যে আদেশ দিলেন এবং তাকে বেত্রাঘাত করার জন্যে নির্দেশ প্রদান করলেন। কথিত আছে যে, হযরত আলী (রা) তার শরীর থেকে চাদর খুলে ফেলেন এবং সাইদ ইবনুল ‘আস (রা) তাকে হযরত ওসমান রাযি. তাকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন। আর ওসমান রাযি. তাকে বরখাস্ত করেন ও সাইদ ইবনুল আস রাযি. কে তার পরিবর্তে কুফায় নিয়োগ দেন।” (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ-৭/২৮১)
উপরের দুটি ঘটনা থেকে সাহাবী রাযি. সম্পর্কে আনিত দুটি অভিযোগের অসাড়তা প্রমাণিত হলো। কারণ খোদ ঐতিহাসিকই এই দায়িত্বটি পালন করেছেন। তিনি শুধু অভিযোগ করেন নি। বরং সাদ রাযি. কে অপসারণের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। ইটিই ইতিহাস ও ইতিহাস পাঠের তরিকা।
শেষ কথা-
উপরে আমি আকাঈদ, সাহাবীদের পরিচয়, তাদের আদালত সত্যপন্থি ঐতিহাসিকদের ইতিহাস বর্ণনা পদ্ধতী ও সাহাবী সামালোচকের অভিযুক্তকরমূলক বর্ণনা পদ্ধতির কয়টি উদহারণ ও বিভিন্ন ঘটনার যে নানা আঙ্গিক পেশ করেছি এগুলো হচ্ছে মৌলিক উসূল। এগুলো আত্মস্ত করতে পারলেহযরত ওসমান রাযি, থেকে কারবালা পর্যন্ত সময়টার প্রকৃত সত্য বের করা সম্ভব। সত্যপন্থি ঐতিহাসিকদের বর্ণনা ধারা থেকে হযরত ওসমান রাযি. সহ সাহাবী, রাযি. সম্পর্কে আরোপিত অভিযোগগুলো যে মিথ্যা তাও খুব সহজেই প্রমাণ করা সম্ভব।
কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের শিয়া ইতিহাসবাদের দ্বারা প্রভাবিত রাজনৈতিক পর্যালোকচকদের। তারা সত্যপন্থি ঐতিহাসিকদের এই ধারাকে গ্রহণ না করে নিজেরাই ইতিহাস বর্ণনার এমন ধারা তৈরি করেছে যাতে ঐতিহাসিকের বর্ণনা সূত্র ধরে সাহাবী চরিতকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। আর এই ধারাটিই মওদুদীবাদ ও সাহাবী সমালোচকের ভ্রান্তির রাজ পথ। যদিও তারা তা বুঝতে অক্ষম। আল্লাহ তাদের হিদায়াত দিন। আমিন।


