ব্যাক্তি কখন স্বৈরাচার হয়ে উঠে বলতে পারেন?
যখন সে তার আপন পরিবার সমাজ ইনার সার্কেলে এমন একটা পরিবেশ পায় যেখানে তার কৃত ভূলগুলো (বন্ধুত্বে, কৌশলে, গার্ডিয়ানশিপে) শুধরে দেয়ার মত কেউ থাকেনা কিংবা থাকলেও ব্যাক্তি/পারিবারিক/দলগত সুবিধা/স্বার্থ প্রাপ্তীর আশায় তাকে শুধরে না দিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীরব থাকে। নিজেকে তখন ঐ ব্যাক্তি বাধাহীন উড়ন্ত পাখির মত ভাবতে শুরু করে।
মনে মনে নিজেকে সে, যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোত্তম চিন্তকের আসনে বসিয়ে দেয়। নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া পূর্বাপর কিছু সাময়িক সফল সিদ্ধান্তকে সামনে এনে একটা পরিসংখ্যান দাড় করায় ঠিক এভাবে, আমি যা ভাবি, করি, সিদ্ধান্ত নেই তাই সঠিক, 'আমিই সেরা'।
চিন্তা বিবর্তনের এই সময়টাতে আশেপাশে তার সমপর্যায়ের যে কারো কোন পরামর্শ, ভূল শুধরে দেয়ার চেস্টাগুলো তারকাছে উটকু ঝামেলা, তার সাফল্যগতি থামিয়ে দেয়ার অপচেস্টা কিংবা অর্থহীন প্যাচাল বলে মনে হয়। মনোবিশ্লেষকরা এই পর্যায়টাকে বলেন 'একদেশদর্শিতা'।
ব্যাক্তি যদি তার চিন্তাজগতে একদেশদর্শিতার এই পর্যায়টুকুও কোনভাবে অতিক্রম করতে পারেন আর সাথে কিছু অর্থ বিত্ত কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তির মত সহযোগি উপাদান হাতে পান, তখন নিজের ইচ্ছা, অভিলাষ, পছন্দ, অপছন্দ নিজের অধিনস্তদের উপরতো চাপিয়ে দেন বটেই সেইসাথে চারপাশের সবাইকে তার গোলাম ভাবতে শুরু করেন। কেউ তার মতের বাইরে গেলে জোর করে শক্তি খাটিয়ে তার মতামত ইচ্ছে অনিচ্ছা (তার মতের বাইরে যাওয়া তৃতীয়) ঐ ব্যাক্তি/ব্যাক্তিসমস্টির উপর চাপিয়ে দেন।
আচরনগত এই উণ্মাষিক পর্যায়টাকে লোকে বলে স্বৈরাচারিতা আর লোকটাকে বলে স্বৈরাচার।
চৈন্তিক উন্মাষিকতার এই চূড়ান্ত পর্যায় থেকে তাকে আর সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভবপর হয়ে উঠেনা। ক্রমেই সে প্রতিহিংসাপরায়ন, সহিংস এক মুর্তিতে আবির্ভূত হতে থাকে।
এইরুপ সমচিন্তার একদল মানূষ যখন একইরকম আচরন প্রকাশ শুরু করে তখন তাদের সমস্টিগত আচরনকে রাস্ট্রবিজ্ঞান বলে ফ্যাসিজম। ইতিহাস সাক্ষী, ফ্যাসিজম আত্মবিধ্বংসী এক অসুস্থ আন্দোলন/চিন্তার নাম। দীর্ঘমেয়াদে এটা কখনোই কল্যান বয়ে আনেনা।

0 comments: